যুবদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবেঃ বেলপাহাড়িতে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 05 May 19

আজ ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়িতে একটি নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যুবদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার আর্জি জানান।
তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশঃ
যুবদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে এবং দলের আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমিও আমার ছাত্রাবস্থা থেকে রাজনীতি শুরু করি।
গত দুদিন ধরে ভীষণ দুর্যোগের আবহাওয়া। আমিও দুদিন সভা ক্যান্সেল করে খড়গপুরে ছিলাম কারণ ঝড়ের ওড়িশা হয়ে খড়গপুরে ধাক্কা খেয়ে ঝাড়গ্রামে ঢোকার কথা ছিল। সেই জন্য আমি আগে থেকেই খড়গপুরে বসে ছিলাম।
গতকালও আজ আমি অনেক জায়গা ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব নিয়েছি। এখানে ৫ হাজার মাটির বাড়ি ও ২৯ হাজার ৫০০ বাড়ি আংশিক ভেঙেছে। আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না। যাদের বাড়ি নষ্ট হয়েছে বা কৃষির ক্ষতি হয়েছে, তাদের সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবে। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে ও থাকবে।
জঙ্গলমহল আমার খুব প্রিয় জায়গা। এক সময় এই জঙ্গলমহল নাম শুনলে লোকে ভয় কাঁপত। আমি ভাবতাম কবে আমার জঙ্গলমহল শান্তিতে হাঁসবে?
আগের সরকারের আমলে জঙ্গলমহলকে অবহেলা তাচ্ছিল্যের কথা আমরা ভুলিনি। এখানকার মানুষ খেতে পেতনা, কোনও কাজ ছিল না, পরিবহণ ব্যবস্থা ছিলনা, চিকিৎসার ন্যুনতম বন্দোবস্ত ছিলনা। গত আট বছরে আমি বারবার এখানে ছুটে এসেছি এটা দেখতে যে এখানে প্রতি প্রান্তে যাতে উন্নয়ন হয়।
এখন জঙ্গলমহলে শান্তির আবহাওয়া। এখানকার পরিকাঠামো তৈরী করা হচ্ছে। মাল্টি জিম, ইন্ডোর স্টেডিয়ামের পাশাপাশি তৈরী হয়েছে ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামও। এছাড়াও অসংখ্য কাজ হয়েছে এখানে।
স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, হোস্টেল – মানুষের প্রয়োজনীয় সব কাজ আমরা করেছি।
আমি প্রায়ই এখানে আসি। কিছু মানুষ আছে যারা পাঁচ বছরে একবার এখানে আসে। মোদী বাবু সুভু ভোটের সময় হলে আপনাদের কাছে আসে।
এটা পঞ্চায়েত বা বিধানসভা নির্বাচন না, এটা কেন্দ্রের নির্বাচন। গত পাঁচ বছরে নরেন্দ্র মোদী কি করেছেন? বিজেপি পেট্রোল, ডিজেলের, রান্নার গ্যাসের দাম অগ্নিমূল্য করেছেন, নোটবাতিল করেছেন যার ফলে মানুষের ভোগান্তি হয়েছে এবং বহু মানুষ নোট বদলের লাইনে দাঁড়িয়ে মারা গেছেন।
বিজেপি মানুষে মানুষে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। মিথ্যে কথা, কুৎসা করে মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগাচ্ছে। বিজেপি মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে মানুষকে এবং মিথ্যে কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
বিজেপি এখানে এসে বলে রাজ্য সরকার বাংলায় পুজো করতে দেয়না। আপনারা বলুন, এখানে দুর্গা পুজো, সরস্বতী পুজো, ঈদ, বড়দিন সবকিছু হয় কি হয় না?
বাংলায় সব হয় শুধু বিজেপি আর মোদী হয়না। ওদের দলকে এখানে ঢোকা রুখতে হবে। আমাদের এ রাজ্যের সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।




বিজেপি মাওবাদী হিংসা থামাতে পারেনি, বাংলা পেরেছে- গোয়ালতোড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 05 May 19

আজ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়গ্রাম জেলার গোয়ালতোড়ে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, একদিকে যখন বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যে মাওবাদীদের বাড়-বাড়ন্তে ভাটা পড়েনি, সেখানে বাংলার জঙ্গলমহলে আজ শান্তি ফিরে এসেছে।
ওনার বক্তব্যের কিছু অংশঃ
যে যে রাজ্যে বিজেপি এখন ক্ষমতায় আছে সেখানে সেখানে মাওবাদী হিংসা এখনও আছে। কিন্তু আমাদের জঙ্গলমহল আজ শান্ত।
আমরা আদিবাসীদের জন্যে অনেক কাজ করেছি। আমরা অলচিকি লিপিকে স্বীকৃতি দিয়েছি। সাঁওতালি মাধ্যমে স্কুল তৈরি হয়েছে।
আমাদের সরকার মানুষের জন্যে কাজ করে কোনও ভেদাভেদ না করে। প্রত্যেক পরিবার রাজ্য সরকারের কোনও না কোনও প্রকল্পে উপকৃত হয়েছেন।
এটা কেন্দ্রে সরকার গড়ার নির্বাচন। আমদের বিজেপির বিদায় নিশ্চিত করতে হবে যাতে ওরা আরো বেশি করে অত্যাচার না চালাতে পারে।
বিজেপি তো এখন লাঠিধারী গুন্ডাদের দল।
নরেন্দ্র মোদীকে প্রশ্ন করুন তিনি আমাদের জন্যে কি করেছেন? শুধু তো দেশে দেশে ঘুরে বেড়িয়েছে।
এই বিজেপি সরকার না দিয়েছে রুটি না দিয়েছে কাপড়, না দিয়েছে ঘর- যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্যে অপরিহার্য।
ওরা ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে আর আমরা কণ্যাশ্রী প্রকল্পে ৭০০০ কোটি টাকা খরচ করেছি। আয়ুষ্মান ভারত তো ফ্লপ প্রকল্প।
আমি আপনাদের দুঃখের দিনে আপনাদের পাশে থেকেছি। সাইক্লোন যেদিন হল সেদিন আমি খড়গপুরে ছিলাম। রাজ্য সরকার যার যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাকে সবরকম সাহায্য করবে। আগের বারে বন্যার সময়েও আমরা সবরকম সাহায্য করেছিলাম।
বিজেপির একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে বাংলায় দাঙ্গা বাঁধানো যা আমরা কোনওদিন বাংলায় হতে দেব না।
নরেন্দ্র মোদীর দাঙ্গা বাঁধানোর ভালই অভিজ্ঞতা আছে কারণ তিনি গুজরাতে অনেক দাঙ্গা বাঁধিয়েছেন।
বিজেপি সারা দেশে হারবে। সমস্ত এক মনোভাবাপন্ন দল এক হয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়বে।




মোদী বাবু আর দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন নাঃ দাঁতনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 05 May 19

আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে একটি নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তার বক্তব্যে তিনি বলেন যে নরেন্দ্র মোদী আর ক্ষমতায় ফিরছেন না।
ওনার বক্তব্যের কিছু অংশঃ
মোদী বাবু আর ক্ষমতায় ফিরছেন না। খুব বেশি হলে সারা দেশ থেকে ১৫০-১৬০ টি আসন পাবে বিজেপি, কিভাবে ওরা সরকার গঠন করবে?
সরকার মানুষের বন্ধু মানুষের পরিবার। কেউ বিপদে পরলে তাদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা ৩৬৫ দিন এই কাজ করি। লোক দেখানোর জন্য শুধু নির্বাচনের সময় কাজ করি না সাইক্লোনে অনেক বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। আমাদের সরকার সেইসব বাড়ি তৈরি করে দেবে। যাদের আংশিক ক্ষতি হয়েছে তাদের সাহায্য করা হবে। সরকার মানুষের পাশে আছে আর থাকবেও।
এই জেলায় মাল্টি সুপার হাসপাতাল থেকে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব, আইটিআই, পলিটেকনিক কলেজ, নতুন রাস্তা, ব্রিজ সহ অনেক কাজ হয়েছে
বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সহ কপালেশ্বর বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ আমরা শুরু করেছি। বারবার বলা সত্ত্বেও কেন্দ্র টাকা দেয়নি
আগে মাওবাদী আন্দোলনের নামে মানুষের ওপর অত্যাচার করা হত। বিজেপি কোন রাজ্যে মাওবাদী সমস্যা সমাধান করতে পারেনি কিন্তু আমরা আমাদের রাজ্যে এই সমস্যা সমাধান করে দিয়েছি। এখন মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়ার মানুষ শান্তিতে আছে। ভাল আছে জঙ্গল মহলের মানুষ
আমরা ঝাড়গ্রাম নতুন জেলা করেছি, যা এখানকার মানুষের দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে ছিল
আগে এই সব এলাকার মানুষ খেতে পেত না। পিঁপড়ের ডিম তারা সেদ্ধ করে খেত। তাই আমি ক্ষমতায় আসার পর ২ টাকা কিলো চাল দেওয়া শুরু করেছি মানুষ যাতে ২ বেলা খেতে পায় মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় কাজ আর কিছু নেই
এটা পঞ্চায়েত, গ্রামসভা বা বিধানসভা নির্বাচন নয়, এটা দিল্লীর নির্বাচন। নরেন্দ্র মোদীকে দিল্লী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। ৫ বছরে উনি কি কাজ করেছেন তার জবাব আমরা চাই
৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকে সিপিএম সব এলাকাগুলো জ্বালিয়েছে, আর এখন সিপিএমের হার্মাদ গুলো বিজেপির ওস্তাদ হয়েছে
গত ৫ বছরে নোটবাতিলের নামে সব ব্যবসা, কৃষি, শিল্প বন্ধ করে দিয়েছে, ১২০০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছে, ২ কোটি বেকার হয়েছে, ১০০ জন মারা গেছেন ব্যাঙ্কের লাইনে দারিয়ে। পেট্রোল ডিজেল সহ সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এই কি ওনার আচ্ছে দিন?
পুরো দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে, খালি মন কি বাত আর নিজের প্রচার করে বেড়িয়েছে
নির্বাচনের আগে বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেবে। দিয়েছে?
ওনার একটাই কাজ – মানুষকে এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো আর মানুষের ওপর অত্যাচার করা
আগের বার নির্বাচনের সময় ছিল চা ওয়ালা। সাড়ে ৪ মাস বিদেশে ঘুরে বেরিয়ে এখন উনি চৌকিদার হয়েছেন
বাংলায় এসে শুধু মিথ্যে কথা বলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি কোন পুজো করতে দেয় না
নরেন্দ্র মোদী দেশের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ আর দুর্ভোগ, উনি থাকলে মানুষ আর শান্তিতে থাকতে পারবে না, তাই নরেন্দ্র মোদীকে বিদায় দিন
বিজেপির মত দাঙ্গাবাজ দল আর কোথাও নেই, ওরা মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগায় আর ভাগাভাগি করে
কখনো দেখেছেন রাজনৈতিক নেতাদের হাতে গদা আর তরোয়াল? রাজনৈতিক নেতাদের কাজ গুণ্ডামি আর দাঙ্গা নয়, মানুষের সেবা করা, মানুষের সেবা না করলে রাজনীতির ঝাণ্ডা হাতে নেওয়া শোভা পায় না
ঝড়, বন্যায় একটা টাকা দিয়ে সাহায্য করে না কেন্দ্র, আর নির্বাচনের সময় শুধু বড় বড় কথা বলে, একটাও ভোট দেবেন না ওদের




নির্বাচন এলেই বিজেপি রামের নাম করে: পলতায় বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 02 May 19

আজ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পলতায় একটি নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তৃতায় তিনি বলেন যে বিজেপি রামের নাম করলে বোঝা যায় নির্বাচন এসেছে। তিনি বিজেপির নামে অভিযোগ করে বলেন যে ওই দল রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি চালু করতে চাইছে
তাঁর বক্তৃতার কিছু অংশঃ
যখনই শুনবেন বিজেপি-র মুখে রাম-নাম, তখনই বুঝবেন যে নির্বাচন এসে গেছে। ওরা রাম মন্দির বানাতে তো পারেইনি এমনকী বারাণসীর গঙ্গার ঘাটের সংস্কার ওরা করে উঠতে পারেনি।
এরপরেও ওদের বলে বেড়াচ্ছে যে বাংলায় কোনও উন্নয়ন হয় নি। আগের রাজ্য সরকারের আমলে যখন সাধারণ মানুষ ভুগেছেন তখন এই বিজেপি-র কোনও দেখা পাওয়া যায় নি।
গঙ্গাসাগরের কপিল মুনি আশ্রমের মহন্ত আমায় সেদিন বললেন যে রামচন্দ্র যেন এই নির্বাচনে বিজেপি-র এজেন্ট হয়েছেন।
আগে ওরা এখানে এসে দেখুক গঙ্গাসাগর, তারাপীঠ, তারকেশ্বর, বক্রেশ্বর, কঙ্কালীতলা এইসব জায়গার কি কি উন্নয়ন হয়েছে, দক্ষিণেশ্বরের স্কাই-ওয়াকে চড়ুক তারপরে না হয় কিছু বলুক।
আমরা যে সব ঘাটে ছট পুজো হয় তারও সংস্কার করে দিয়েছি। এখানের দীনেশ ত্রিবেদী ‘শ্রেষ্ঠ সাংসদ’ পুরস্কার জিতেছেন। এটা আমাদের দলের এবং এখানকার মানুষের গর্ব। তারপরে যদি আমি ওনাকে প্রার্থী না করি সেটা কি ভাল হত?
দীনেশদা দলের জন্মলগ্ন থেকে আমাদের সঙ্গে আছেন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে আমাদের সংগ্রামের কথা তিনি সংসদের সামনে তুলে ধরেছিলেন।
এমনকি আমাদের দমদমের প্রার্থী সৌগত রায়ও খুব ভাল সাংসদ। আমরা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের বিরোধিতা করেছি কারণ এতে প্রথমে আপনাকে ছ-বছরের জন্যে বিদেশী বলে ঘোষণা করা হবে। তারপর ওদের খেয়ালখুশি মতো আপনি নাগরিকত্ব পেতেও পারেন, নাও পেতে পারেন।
আমাদের দেশের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন চুক্তি অনুযায়ী যেমন ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বা নেহেরু-লিয়াকৎ চুক্তি অনুযায়ী ২৫শে মার্চ ১৯৭১ সাল পর্যন্ত যারা ভারতে এসেছেন তারা ভারতীয় নাগরিক। তাদের নাগরিকত্ব কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
আমরা ৮৮ টি উদ্বাস্তু কলোনি চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে কিছু কেন্দ্রীয় সরকারি জমিতে অবস্থিত। আমরা এগুলোকে মান্যতা দেওয়ার কথা বলেছি।
আর বিজেপি-র যদি এত হিন্দু-প্রেম তাহলে আসামে ২২ লাখ হিন্দুদের নাম কেন NRC লিস্ট থেকে বাদ দিল? কেনি বা পাঁচজন দলিত বাঙ্গালিকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হল?
আমি অনেক গুন্ডা-গদ্দার দেখেছি। আমায় সহজে ভয় দেখানো যায় না। আমি সারাজীবন সংগ্রাম করে এসেছি, আমি ভয় পাই না। এখন আমার লক্ষ্য হল মোদীকে ক্ষমতাচ্যুত করা।




সবথেকে বড় সিন্ডিকেটের নেতা মোদী: রাজারহাটে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 02 May 19

আজ রাজারহাটে একটি নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সবথেকে বড় সিন্ডিকেটের নেতা মোদী। উনি আরএসএস সিন্ডিকেট, গোরক্ষক সিন্ডিকেট, লিঞ্চিং সিন্ডিকেট, দাঙ্গার সিন্ডিকেট, নরহত্যার সিন্ডিকেট, কৃষক হত্যার সিন্ডিকেট, বেকার তৈরী করার সিণ্ডিকেট এর নেতা।
তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশঃ
সবথেকে বড় সিন্ডিকেটের নেতা মোদী – আরএসএস সিন্ডিকেট, গোরক্ষক সিন্ডিকেট, লিঞ্চিং সিন্ডিকেট, দাঙ্গার সিন্ডিকেট, নরহত্যার সিন্ডিকেট, কৃষক হত্যার সিন্ডিকেট, বেকার তৈরী করার সিণ্ডিকেট।
আগের সরকার গায়ের জোরে জমি কেড়ে নিত। ক্ষতিপূরণ পর্যন্ত তাদের দেওয়া হত না। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনি ও সমাধান করার চেষ্টা করি।
রাজারহাট নিউটাউনে শুধুমাত্র পরিকাঠামো উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা সরকার ব্যয় করেছে। একদিন এই নগর সারা বিশ্বকে টেক্কা দেবে। এখানে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার, কারিগরি ভবন তৈরী হয়েছে। প্রেসিডেন্সী কলেজের নতুন ক্যাম্পাস হয়েছে। এখানে আইটি হাব তৈরী হয়েছে। এই অঞ্চলের সিলিকন ভ্যালীতে যে আইটি হাব তৈরী হবে, সেখানে বহু ছেলেমেয়ে চাকরি পাবে।
নরেন্দ্র মোদীর লজ্জা নেই, দিল্লী থেকে বাংলায় এসে গালাগালি দিয়ে বলছে বাংলায় কিছু হয়নি, আমায় ভোট দিন, আমি এসে করব।
মোদী বাবু গালাগালি দেওয়ার আগে হোমওয়ার্কটা করে আসুন। স্কুলে হোমওয়ার্ক না করে গেলে বাচ্চাদের যেমন শিক্ষক শিক্ষিকারা বকেন, আপনি যে হোমওয়ার্ক না করে এসে এখানে মিথ্যে কথা বলছে, জনগণ যদি আপনাকে বকে, আপনি কি করবেন?
আমরা সব ধর্মের অনুষ্ঠান এখানে পালন করি। এখানে সব পুজো হয় শুধু এখানে মোদী, বিজেপি, কুৎসা, মিথ্যে হয়না।
বাংলায় নাকি সরস্বতী পুজো করতে দেওয়া হয় না বলার আগে, সরস্বতী পুজোর মন্ত্রটা টেলিপ্রম্পটারে সেভ করে রাখবেন, তাহলে আপনার মনে থাকবে, আর সেভ না করলে একদিন আমার সঙ্গে বসবেন, দেখব কার কত মন্ত্র মুখস্ত আছে।
মোদীবাবু নিরামিষ খান বলে এয়ার ইন্ডিয়ার ইকোনমিক ক্লাসে আমিষ খাবার দেয় না। উনি যা খাবেন, সবাইকে সেটা খেতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের ওনার সভায় যেতে বাধ্য করা হয়।
নোটবাতিল করে মোদীর লাভ হল। মোদী বলেছিল নোটবাতিল করে কালো টাকা ফেরত নিয়ে আসব, আর ১৫ লক্ষ টাকা করে তোমাদের অ্যাকাউন্টে দেব। কিচ্ছু হয়নি। বলেছিল নোটবাতিল করে সন্ত্রাস বন্ধ করব। ২৬০% সন্ত্রাস বেড়েছে সন্ত্রাস।
মোদী ক্ষমতায় ফিরলে, দেশে গণতন্ত্র থাকবে না, স্বাধীনতা থাকবে না, কোনও মানুষ ভালো থাকবে না, আর নির্বাচন হবেনা। বিজেপি হঠাও দেখ বাঁচাও। মোদী হঠাও দেশ বাঁচাও।




‘গদ্দার’দের জামানত জব্দ করতে হবেঃ ভাটপাড়ায় বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 02 May 19

আজ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ায় প্রথম নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৯শে মে ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন এবং আগামী ৬ই মে ব্যারাকপুরের (যার অধীনে ভাটপাড়া পড়ে) লোকসভা নির্বাচন। নিজের বক্তব্যে তিনি বিজেপি-তে যোগদানকারী ‘গদ্দারদের’ আক্রমণ করে বলেন, এমন কিছু লোক রয়েছে যারা কখনো সন্তুষ্ট হয় না। এই নির্বাচনী এলাকার দুটি ‘গদ্দার’ রয়েছে যারা শুধু নিজেদের জন্য আরও বেশি সুবিধা চায়। গদ্দারদের জামানত জব্দ করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ওনার বক্তব্যের কিছু অংশঃ
কিছু কিছু লোককে কখনোই সন্তুষ্ট করা যায় না। এখানে দু জন আছে যারা দল থেকে সব নেওয়ার পরও গদ্দারি করেছে। ওদের সব কিছু চাই – আমরা কি করে এত দেব? ভগবানও এত কিছু দিতে পারে না
বিজেপি, আরএসএসের কিছু গুন্ডা আছে যারা আগুন জ্বালায়। আমাদের লোকেরা আগুন জ্বালায় না। পরশু দিনও করেছে, আমারা দাঙ্গাবাজকে কখনো ছাড়ি না, এত লাটসাহেবি এখানে চলবে না। অনেক গুন্ডাগিরি দাদাগিরি হয়েছে – নির্বাচন শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে, তারপর ওদের কি হবে?
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে এখানকার মানুষ সমর্থন করেছে, মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সকলকে আমার অভিনন্দন
আমরা এখানে অনেক কাজ করেছি। মঙ্গল পাণ্ডে পার্ক করা হয়েছে ব্যারাকপুরে। নলহাটি, ব্যারাকপুর, বারাসাতে আমরা স্টেডিয়াম করেছি।
এখানে আমরা একটা বিমানবন্দর করতে চাই
বাংলায় হিন্দিভাষী – বাংলাভাষী সবাই একসাথে থাকে, এখানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে থাকে। এখানে হিন্দু মুসলমানে কোনও ভেদাভেদ নেই
এই নির্বাচন দিল্লীর, নরেন্দ্র মোদী ৫ বছরে কি কাজ করেছেন তার কৈফিয়ত চাইবার দিন, উনি আজ পর্যন্ত বলেননি উনি কি কি কাজ করেছেন
বাংলায় এসে বলছে ৪০ টি বিধায়ক নাকি ওনার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। আমি তাদের একজনের নাম জানতে চাই। লোকসভার নির্বাচন করতে এসে বিধানসভার জন্য ঘোড়া কেনা বেচা করছে, লজ্জা করে না ওনার। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এমন কথা শোভা পায় না। টাকা দিয়ে বিজেপিকে কেনা যায়, তৃণমূলকে নয়।
২টো গদ্দার আছে এখানে, একজন আমার কাছে লোকসভার টিকিট চেয়েছিল আমি দিইনি, টিকিট পায়নি বলে গদ্দারি করেছে, সব জায়গাতেই এরকম দু একটা গদ্দার থাকে
তৃণমূল কংগ্রেস আঞ্চলিক দল হলেও তারা সর্বভারতীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট কথা বলতে পারে।
সিবিআই, এজেন্সি বা নরেন্দ্র মোদীর কথাকে তৃণমূল ভয় পায় না বাইরে থেকে কিছু আরএসএস-এর প্রচারককে বাংলায় পাঠিয়েছে। বড় বড় টাকার বাক্স নিয়ে ঘুরছে। এটাই ওদের সংস্কৃতি
মোদী সারা ভারতে হারবে। লোকে আর এখন মোদী বাবুর কথা শুনছে না, অন্যান্য রাজ্যে ওনার সভায় আর লোক হচ্ছে না তাই এখন উনি বারবার বাংলায় আসছেন
৫ বছরে টিভিতে বসে শুধু নিজের প্রচার (মন কা বাত) করেছে। আর ৯৯% মিডিয়াকে কন্ট্রোল করে নিয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করলে তার চ্যানেল বন্ধ করার হুমকি দেয় নাহলে সিবিআই ইনকাম ট্যাক্স পাঠায়। ওনার ভয়ে কোন মানুষ কথা বলতে পারে না। একমাত্র বাংলাই লড়াই করতে পারে
আগের বার নির্বাচনের আগে বলেছিল আচ্ছে দিন আনবে। রান্নার গ্যাস, ডিজেল-পেট্রোল সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, ২ কোটি লোক বেকার হয়ে গেছে, মানুষের ওপর অত্যাচার করছে, ১২০০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছে – এই কি আচ্ছে দিনের নমুনা? এভাবে দেশ চলে?
আগে বলেছিল উনি চাওয়ালা আর কেটলি নিয়ে ঘুরে বেড়াত, এখন শুধু জেটলি আছে তাও আবার ৬ মাস থাকে ৬ মাস থাকে না
আর এবার উনি চৌকিদার হয়েছেন… (সঙ্গে সঙ্গে জনতার চিৎকার চৌকিদার চোর হ্যায়)
মানুষের কথার ওপর কিছু হয় না, মানুষের রায় সবচেয়ে বড় রায়। সবাই মিলে ওদের বিরুদ্ধে ভোট দিন
মোদী দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু। নরেন্দ্র মোদী আবার ক্ষমতায় এলে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা থাকবে না, কোন ধর্ম থাকবে না। শুধু অধর্ম, গুন্ডাবাজি হবে
১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরেই সিপাহী বিদ্রোহ হয়েছিল, অনেক ঐতিহাসিকের মতে সেটাই স্বাধীনতা প্রথম আন্দোলন। আমি ব্যারাকপুরের মানুষকে বলব এবার বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে আপনারা এই ব্যারাকপুরে আর এক ইতিহাস তৈরি করুন নির্বাচনের সময় রামের কথা মনে পড়ে আর ৫ বছরে একটা রাম মন্দির করতে পারেনি আর পারবেও না। বাংলায় আমরা সব তীর্থ স্থানগুলির সংস্কার করেছি দরকার হলে ওরা এসে দেখে যাক কোন কাজ না করে ভোট চাইছে আর জবরদস্তি করছে মানুষের ওপর
আমরা সব ধর্ম পালন করি, সব ধর্মকে সম্মান করি কারণ আমরা সর্ব ধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করি
ওরা নিজেরা বোম মেরে সব ঘরে গিয়ে বলবে মুসলমান করেছে, এইভাবে দাঙ্গা লাগাচ্ছে। ওদের ফাঁদে পা দেবেন না। এইসব বাংলায় চলবে না
আপনারা চিন্তা করবেন না, ভাববেন না, মা মাটি মানুষের দল আপনাদের সকলের সঙ্গে আছে




বনগাঁ কেন্দ্রের জন্য মমতা বালা ঠাকুরের নাম বড় মা নিজে সুপারিশ করেছিলেনঃ বাগদায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 29 Apr 19

আজ বাগদার হেলেঞ্চায় একটি নির্বাচনী জনসভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বনগাঁ কেন্দ্রের জন্য মমতা ঠাকুরের নাম বড় মা বীণাপাণি দেবীই সুপারিশ করেন। তিনি আরও বলেন যে মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে।
ওনার বক্তব্যের কিছু অংশঃ
বনগাঁ কেন্দ্রের জন্য মমতা বালা ঠাকুরের নাম বড় মা নিজে সুপারিশ করেছিলেন
গত ৩০ বছর ধরে আমরা বড় মা-র খেয়াল রেখেছি, ওনার চিকিৎসা করিয়েছি। তখন কোথায় ছিল এরা?
আজ বিজেপি এসে প্রীতি দেখাচ্ছে। কোনদিন ওরা ঠাকুর বাড়িতে আসেনি, আমি বরাবর সেখানে যেতাম
গাইঘাটায় হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। কৃষ্ণনগরে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হচ্ছে
মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য আমরা মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ, নমশূদ্র উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করেছি
দিল্লীর সরকার আমাদের থেকে ঋণ বাবদ ৪৯ হাজার কোটি টাকা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সিপিএম ৩৪ বছর দলবাজি করে নিজেদের পকেটে টাকা পুরেছে আর ওদের অপদার্থতার ঋণ এখন আমাদের শোধ করতে হচ্ছে। সব ঋণ শোধ করেও আমরা সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চালু রেখেছি
অসমে এনআরসি করে ৪০ লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে, যার মধ্যে ২২ লক্ষ হিন্দু বাঙালী
এনআরসি হওয়ার পর আমি আমাদের এক প্রতিনিধি দলকে ওখানে পাঠিয়েছিলাম, তাদের মারধর করে বিমানবন্দরে আটকে রেখেছিল
আমরা বলেছি অসম থেকে যাদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, বাংলায় তাদের আমরা আশ্রয় দেব
তৃণমূল কংগ্রেস অসমের মানুষের পাশে রয়েছে। কোন দল যখন যখন সমর্থন করেনি তখন আমরা অসমের মানুষের পাশে ছিলাম, আগামিদিনেও থাকব
বিজেপি বলেছে বাংলায় এনআরসি করবে, বাংলার মানুষের গায়ে হাত দিলে বাংলার মানুষই ওদের বিদায় দেবে
হিন্দু ধর্ম অনেক প্রাচীন। আর বিজেপির জন্ম হয়েছে কয়েক বছর আগে। ওরা হিন্দু ধর্মের কি জানে? কিসের হন্দু ওরা? ওরা হিন্দু ধর্মের অপমান করছে
নির্বাচন এলে বিজেপির রামের কথা মনে পরে, তখন জয় শ্রী রাম বলে চিৎকার করে, আর ৫ বছরে একটা রাম মন্দির তৈরি করতে পারেনি
বাংলার কিছুই বোঝে না, বাংলার সংস্কৃতি জানে না, বাংলার মা বনেদের সম্মান করে না। এত সাহস এখানে এসে বলে যাচ্ছে বাংলায় দুর্গা পুজো হয় না
যখন আমরা দুর্গা পুজোর সংগঠকদের, ক্লাবগুলোকে আর্থিক সাহায্য দিয়েছিলাম তখন ওরা আমাদের বিরুদ্ধে কোর্টে কেস করেছিল। ৪০ টি দুর্গা পুজোর সংগঠকদের ওরা ইনকাম ট্যাক্সের নোটিস দিয়েছিল, আর এখন এসে এইসব মিথ্যে কথা বলে যাচ্ছে ওদের মগজ মরুভুমি, মাথা অনূর্বর, ওরা শুধু দাঙ্গা করে আর হিন্দু মুসলমান করে। মানুষের মধ্যে ভাগাভগি করে, মানুষের ওপর অত্যাচার করে
ক্ষমতায় আসার আগে মোদী বাবু বলেছিলেন ‘আচ্ছে দিন’ আসবে। নির্বাচনে জেতার পর উনি শুধু বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর নির্বাচনের আগে এখন মানুষের কাছে ভোট চাইতে এসেছেন পেট্রোল–ডিজেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। ২ কোটি মানুষ বেকার হয়েছে, ১২০০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছে। দলিত-সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে – এই কি আচ্ছে দিন?
নাগরিক বিলের নাম করে ৬ বছরের জন মানুষকে বিদেশি বানিয়ে দেবে। তাপ্রপর গায়ের জোরে ের করে দেবে বিদেশি বলে। তারপর ওরা যে আবার আপনাকে নাগিরিকত্ব দেবে তার কোন গ্যারান্টি আছে?
বিএসএফ কে আমি অনুরধ করব, বিজেপির কথা আপনারা শুনবেন না। কোন দলের কথা শুনবেন না, ভালো করে কাজ করুন, রাজনীতি করবেন না
আজও দুবরাজপুরে একটা বুথে ঢুকে সিআরপিএফ গুলি চালিয়ে দিয়েছে, কি সাহস? ওরা এটা করতে পারে না
আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়, কেন্দ্রের নয়। কিন্তু ওদের এসব করার কোন অধিকার নেই। আইন অনুযায়ী ওদের সব কাজ রাজ্য পুলিশকে সাথে নিয়ে করার কথা। বিজেপি গায়ের জোরে আইনের অপব্যবহার করছে, অভিযোগ আসছে সিআরপিএফ বুথে ঢুকে জিগেস করছে বিজেপির এজেন্ট কে? বিজেপিকে ভোট দাও –এ তা ওদের কাজ নয়, বাংলায় এসব করে লাভ নেই
বাংলার পুলিশকে ওরা ভরসাই করতে পারে না। সারা বছর রাজ্যের পুলিশ পাহারা দেয় আর শুধু ভোটের সময় ওদের দিল্লীর পুলিশ দরকার।
ওরা মানুষকে বিশ্বাস করে না। ভোট পুলিশ দেয় না ভোট মানুষ দেয়
৫ বছর আগে ছিল চা ওয়ালা এখন হয়েছে চৌকিদার। আখন আর চা, কেটলি কিছুই নেই শুধু একটা জেটলি আছে – বছরে ৬ মাস মন্ত্রী থাকে ৬ মাস থাকে না
সব জায়গায় হারবে তাই এখন বাংলায় উকিঝুকি মারছে আর এখানে এসে মানুষের মধ্যে ভাগাভগি করছে
বাংলায় যখন খরা হয় বন্যা হয় তখন আসে না আর এখন আসছে ভোট চাইতে
আরএসএস এর প্রচারকরা আগে হাফ প্যান্ট পরে ঘুরত আর এখন টাকার বাক্স আর শপিং মল নিয়ে দৌড়চ্ছে। আমি রামকৃষ্ণ মিশনকে সম্মান করি ওদের সম্মান করি না। টাকা আর বাইক বিলোচ্ছে
জনগণের টাকা নিয়ে রাজকোষ ফাঁকা করেছে, মানুষকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দিয়ে নিজের থোকা থোকা টাকা করেছে
বিদেশ থেকে কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কোথায় গেল? আপনার দলের টাকা কত বেড়েছে? সম্পত্তি কত বেড়েছে? আগামিদিনে এর সব হিসেব হবে
নোট বাতিল কার স্বার্থে? ১০০ জন মানুষ মারা গেছে? মানুষের টাকা আর ব্যাঙ্কে সুরক্ষিত নয়। দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে। বিজেপি থাকলে মানুষ আর শান্তিতে থাকবে না
ওরা ইতিহাস বদলে দিচ্ছে। সংবিধান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে, এবার মানুষ ওদেরকেই বাতিল করে দেবে
আমরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করি,আর ওরা মিছিল করে গদা, তরোয়াল নিয়ে। ওরা বুঝতে পারছে না আপ যদি ওদের পেছনে ঝাড়ু নিয়ে বেরোয় তখন ওরা কি করবে?
আমরা বাড়ির মহিলা অভিভাবকদের জন্য স্বাস্থ্য সাথী স্মার্ট কার্ড চালু করেছি, এর মাধ্যমে তারা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বীমা পাবে, প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন মোদী বাবুর ভয়ে কেউ কথা বলে না, সবাই চুপ। সাংবাদিকরা কথা বললে তাদের চাকরি চলে যায়, নাহলে তাদের খুন করে দেয় কিন্তু আমি ওনাকে ভয় পাই না। আমি প্রতিবাদ করি বলে আমার ওপর এত রাগ। বাংলায় দাঙ্গা করা জন্য ওদের আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বো না
যে কংগ্রেস সিপিএম একদিন আদর্শের কথা বলত ওরা আজ বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছ, ওদের দেখে লজ্জা হয়




মোদীবাবুর রাজনৈতিক সৌজন্যতা নেইঃ স্বরূপনগরে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 29 Apr 19

আজ উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে এক নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, তিনি এরকম দাঙ্গায় প্ররোচনা দেওয়া প্রধানমন্ত্রী এর আগে দেখেননি যিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। আমি সৌজন্যতা পালন করি। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সৌজন্যতা নেই। আমি শুধু প্রধানমন্ত্রীকে নয়, অনেককে উপহার পাঠাই। ওটা আমি না, বাংলা থেকে দেওয়া হয়। আমরা বাংলায় প্রত্যেকে প্রত্যেককে উপহার পাঠাই। এটা বাংলার সংস্কৃতি।
তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশঃ
আমাদের সরকার যেমন কৃষকদের জমি জোর করে দখল করতে দেয় না, তেমনই আমাদের সরকার জনগণের ওপর জোর করে করও বসায় না।
আমি সৌজন্যতা পালন করি। আমি শুধু প্রধানমন্ত্রীকে নয়, অনেককে উপহার পাঠাই। ওটা আমি না, বাংলা থেকে দেওয়া হয়। আমরা বাংলায় প্রত্যেকে প্রত্যেককে উপহার পাঠাই। এটা বাংলার সংস্কৃতি। আমাকে যদি বাড়িতে ডেকে কেউ এক কাপ চা খাওয়ায়, আপনি সেটা নিয়ে প্রচার করে বেড়াবেন? কি ধরণের মানুষ এরা?
আমি রাজনীতি করলেও, আমার যদি কেউ চিরশত্রুও হয়, তাঁর সঙ্গে দেখা হলে আমি আমার বসার জায়গা ছেড়ে তাঁকে বসতে বলি। এটা আমাদের সংস্কৃতি। আপনারা জানেন সিপিএম আমার ওপর কত অত্যাচার করেছে, তা সত্ত্বেও বুদ্ধদেব বাবু যখন অসুস্থ, আমি অনেকবার তাঁর বাড়ি গেছি। আমি নিয়মিত খোঁজ নিয়েছি। জ্যোতি বসুর শেষ দিনেও আমি তাঁকে অনেকবার দেখতে গেছি। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও আমি গেছি। আমি এই সংস্কৃতিতেই বিশ্বাসী। আমি সিপিএম নই, আমি বিজেপি নই, এটা বাংলার সংস্কৃতি, এটা আমার সংস্কৃতি, এটা আমার দলের সংস্কৃতি। ভালো ফল হলেও আমরা পাঠাই, এতে চাটুকারিতার কিছু নেই।
পাঁচ বছর কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। আপনারা দেখেছেন ওরা কি ভয়ঙ্কর।
পাঁচ বছর আগে নরেন্দ্র মোদী গরম গরম কথা বলেছিল মানুষকে, বাইরে থেকে কালো টাকা ফেরত নিয়ে এসে সবাইকে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে। এক পয়সাও কারোকে দিয়েছে? বরঞ্চ নোটবন্দী করে আপনাদের পকেট মেরেছে।
বিজেপি বলেছিল আচ্ছে দিন নিয়ে আসবে। আপনারা পাঁচ বছরে কি আচ্ছে দিন দেখলেন? নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন ১২ হাজার কৃষকের আত্মহত্যা করার দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন ৩ কোটি মানুষের বেকার হওয়ার দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন পেট্রোলের দাম বাড়িয়ে দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন তপশিলিদের মেরে দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন সংখ্যালঘুদের খুন করে দিন, নরেন্দ্র মোদীর আচ্ছে দিন সাংবাদিক হত্যা করার দিন।
সাড়ে চার বছর মোদী বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছে। বন্যায় মানুষের কাছে এসেছে? কোনও বিপদে মানুষের কাছে এসেছে? বাংলায় এক পয়সাও দিয়েছে? এমনকি শুধু বাংলা নামটাও এতোবার বিধানসভায় পাশ করে পাঠানোর পর অনুমোদন দিচ্ছে না। এদের বাংলা নামটাতেই হিংসা, ঈর্ষা। বাংলায় এসে দুটোই কাজ করে মা মাটি মানুষকে গালাগাল দেওয়া আর চিট ফান্ডের বিষয়ে কথা বলা। আমি বলি, চিট ফান্ড চিটিংবাজরা করে, আমাদের দলে চিটিংবাজ নেই। আপনার বিজেপি দলে চিটিংবাজ আছে। তাই এক একটা মীটিং করতে আপনারা কোটি কোটি টাকা খরচ করেন।
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমাদের আমলে একটাও চিটফান্ড হয়নি। সিপিএমের আমলে হয়েছে। আমরা গ্রেপ্তার করেছি, ৩০০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি। কিন্তু, মোদী সিপিএমের একজনকেও গ্রেপ্তার করলেন না কেন?
২০১৪ সালে চিট ফান্ড কেস শুরু হয়েছে, আজ ২০১৯ সাল। পাঁচ বছরেও কেসের সমাধান হল না কেন? এখনও এই কেসে কিছু প্রমাণিত হয়নি। এখনও কোর্টে কেস চলছে। আপনার বিরুদ্ধে মামলা করা উচিৎ।
সব থেকে বড় চিটার তারা যারা ভারতবর্ষকে চিট করে। পিএসিএল এর বিরুদ্ধে কোনও অনুসন্ধান হয়েছে? তাকে বিদেশে যেতে দিলেন কেন? সাহারা কোম্পানিকে তো আপ্নারাই সাহায্য করেছিলেন।
আপনাদের দল মিটিঙে লোক আনে টাকা দিয়ে, এজেন্সি দিয়ে।
আমি বিএসএফ কে অনুরোধ করব, আপনারা দয়া করে গ্রামের লোকদের বলবেন না, বিজেপিকে ভোট দাও। আজ সেন্ট্রাল ফোর্স দুবরাজপুরে বুথের মধ্যে গুলি চালিয়েছে। এটা সিআরপিএফের কাজ নয়, আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। সারা বছর রাজ্য পুলিশ আপনাদের পাহারা দেয়। পুলিশ গুলি চালাক, তান্ডব করুন, লোক মারুক, এটাও আমি চাই না। বিজেপিকে বলব, এই নোংরা রাজনীতি করবেন না। বাংলায় এই নোংরা রাজনীতির জায়গা নেই।
একটা প্রধানমন্ত্রী এতো মিথ্যে কথা বলে আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। এখানে এসে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় দুর্গা পুজো করতে দেয়না। এখানে দুর্গা পুজো হয়? ঈদ হয়? বড়দিন হয়?
এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আগে অনেক নির্বাচন দেখেছেন। কিন্তু, আপনারা কখনও মোদীবাবুর মত এতো অহঙ্কারী, ঔধত্যপূর্ণ, ঈর্ষাকারী, দাঙ্গাকারী প্রধানমন্ত্রী দেখেননি। মোদী যখন প্রধানমন্ত্রী হল, আমাদের খুব খারাপ লেগেছিল। কারণ, গুজরাটের দাঙ্গার রক্ত আজও ওর হাতে লেগে আছে।
নোটবন্দীর আধ ঘণ্টার মধ্যে আমি বিবৃতি দিয়েছিলাম যে এটা খারাপ হচ্ছে। আমাকে অনেকে জিজ্ঞেস করে আপনি এতো তাড়াতাড়ি কি করে বুঝলেন নোতবাতিল দেশের জন্য খারাপ হবে? আমি তাদের বলেছিলাম, মেয়ে আর বাচ্ছারা যখন কিছু বলে, একদম ঠিক বলে। কতদিন চাষিরা চাষ করতে পারেনি, দোকানদাররা দোকান চালাতে পারেনি, মা বোনেদের কষ্ট করে জমানো সব টাকা বাতিল হয়ে গেছে।
মোদী বাবু, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন নয় যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাকে জবাব দেবে। এটা আপনার নির্বাচন। আপনি পাঁচ বছর দিল্লীতে কি করেছে, তার কৈফয়েত দিন।
এক মনীষী বলেছেন, আপনি কিছু মানুষকে সব সময় বোকা বানাতে পারেন, আপনি অনেক মানুষকে কিছু সময় বোকা বানাতে পারেন। কিন্তু, আপনি কখনও সব মানুষকে সবসময় বোকা বানাতে পারবেন না।
নির্বাচনের সময় আরএসএসকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এরা লুকিয়ে থাকে, কোনও মানুষ এদের চেনেনা। মোদী বাবু, বারানসী আপনার কেন্দ্র, সেখানকার গঙ্গা আজ পর্যন্ত পরিষ্কার করতে পারলেন না কেন? পাঁচ বছর হিন্দু ধর্ম দেখিয়েছেন, একটা রাম মন্দির তৈরী করতে পেরেছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাইকে নিয়ে চলে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করেছে, তারাপীঠের মন্দির দেখে এসো, দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াকে হেঁটে এসো, তারকেশ্বরের মন্দির দেখে এসো, অনুকূল ঠাকুরের মন্দির দেখে এসো, ইস্কনের মন্দির দেখে এসো মায়াপুরে, বেলুড়ে দেখে এসো, বক্রেশ্বর দেখে এসো, কঙ্কালিতলা দেখে এসো, ফুরফুরা শরীফ দেখে এসো, পাথরচাপরি দেখে এসো।
আমরা দাঙ্গাবাজদের হিন্দুত্বে বিশ্বাস করিনা।
অসমে এনআরসি করে ২২ লক্ষ হিন্দু বাঙালী ও ২০ লক্ষ মুসলমান বাঙালীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাঙালীদের গুলি করে মারা হয়েছে, ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের তাড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা ছাড়া কোনও দল ওদের পাশে দাঁড়ায়নি। আমি আমার দলের মন্ত্রী, সাংসদদের পাঠিয়েছিলাম। এদের ওখানে মেরেছিল, তাও ওরা দমে যায়নি।
এখানে এসে মোদী বলছে বাংলায় এনআরসি করব। এনআরসির এন করে দেখাও, মানুষ তোমায় কি করে দেখ। তোমায় চিরকালের জন্য বিদায় দিয়ে দেবে। কি সাহস ওদের। এখানে কোনও এনআরসি করতে দেওয়া হবেনা।
নাগরিকত্ব বিলে প্রথম ছবছর আপনাকে বিদেশী করে দেবে। আপনার সমস্তও কাজকর্ম, অধিকার চলে যাবে। আপনারা তো নাগরিক।
বিজেপির ভয়ঙ্কর মাকড়সার জাল ছিঁড়ে ফেলে দিতে হবে।




সিপিএম-এর হার্মাদ আজ হয়েছে বিজেপির ওস্তাদ-----হেড়িয়াতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 28 Apr 19

আজ পূর্ব মেদিনীপুরের হেড়িয়াতে একটি জনসভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি নন্দীগ্রাম সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন যে সিপিএম-এর হার্মাদ আজ হয়েছে বিজেপির ওস্তাদ।
তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশঃ
সেদিনের যারা লাল জামা গায়ে দিত, তারা এখন গেরুয়া জামা পড়ছে। হয়েছে বিজেপি-র ওস্তাদ।
আমরা কংগ্রেস ছেড়েছিলাম কারণ দলটা সিপিএম-এর কাছে বিকিয়ে গিয়েছিল।আজ লজ্জার বিষয় সেই বাম বিকিয়ে গেছে বিজেপি-র কাছে।
আমরা ‘সূর্যোদয়’ ভুলিনি। সেদিনকার সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি আমরাই ভুলতে পারব না।
২০০৭-র ১৪ মার্চ ওরা ১৪জনকে মেরেছিল। আরও অনেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন, তারা এখনও ঘরে ফেরেননি।
একটা সময় মানুষকে খেজুরি, এগরা, পটাশপুরে বা হেড়িয়ায় ঢুকতে দেওয়া হত না। আমার গাড়ি ওরা কোলাঘাটে আটকেছিল।
আমাদের কাছে খবর ছিল যে আমার প্রাণের ওপর হামলা হবে। তখনকার রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী উদ্বিগ্ন ছিলেন আমাদের ব্যাপারে।
নরেন্দ্র মোদী এখন মিথ্যে কথা ছড়াচ্ছে। আমাদের ধর্ম দেখাচ্ছে, আমরা যেন হিন্দু ধর্ম জানি না। বলুন এখানে দূর্গা পুজো হয় কিনা? কালীপুজো, সরস্বতী পুজো, ইদ, বড়দিন হয় কিনা?
ওরা একটা কুৎসিত মিথ্যে কথা বলা গুন্ডাদের দল। যে কুৎসিত ভাষা ওরা ব্যবহার করে তা বলার যোগ্য নয়।
ওরা ভোট লড়তে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। আমি কমিশনকে বলব প্রধানমন্ত্রী-র সভাতে কত খরচ হচ্ছে তা দেখতে। কত টাকা খরচ করেছে, কটা এজেন্সি দিয়ে কাজ করাচ্ছে।
কেন্দ্র বাংলায় ফ্যাসিবাদি কায়দায় একটা সমান্তরাল সরকার চালাতে চাইছে। মানুষ তাদের ব্যালট বক্সে জবাব দেবে।
প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় কথা বলেন তা তাকে শোভা পায় না। সবসময় প্ররোচনা-মূলক ভাষণ দিচ্ছে।
বাংলার সব পুলিশ খারাপ? শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী ভাল? প্রধানমন্ত্রী তো রোজ নির্বাচনী বিধি ভাঙছেন, তার বেলায় তো কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
প্রধানমন্ত্রীর পদে আর মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ফারাক নেই। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্র শুধু দেশের প্রতিরক্ষা আর বিদেশমন্ত্রক দেখবে। বাকী সবকিছু রাজ্যের দায়িত্ব।
এবার যদি বিজেপি জেতে, তা হলে দেশে আর নির্বাচন হবে না। আপনাদের টাকা-পয়সাও আর ব্যাঙ্কে সুরক্ষিত থাকবে না।
যে মানুষ নিজের খেয়ালে নোটবন্দী করতে পারে সে গণতন্ত্রকে হত্যা করতে পারে।এরা হিন্দু রাষ্ট্র কী ভাবে বানাবে? অন্যদের মেরে ধরে তাড়িয়ে দিয়ে? দাঙ্গা বাঁধিয়ে? তাহলে সমাজ টিকে থাকবে কি করে?
একটি মানুষের দেহ যেমন সব অঙ্গ ছাড়া হয় না তেমন একটি সমাজ সব রকম মানুষ ছাড়া হয়না।
আমরা একটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আমি আজ একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু আমার আনুগত্য দেশের সংবিধানের প্রতি।
হিন্দু ধর্ম উদার ও সহনশীল। এই ধর্ম মানুষকে এক সাথে শান্তিতে থাকতে শেখায়।




মোদী মহম্মদ বিন তুঘলকের থেকেও ভয়ঙ্করঃ নিমতৌড়িতে বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
Last Updated: 28 Apr 19

আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নিমতৌড়িতে এক নির্বাচনী সভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মোদী মহম্মদ বিন তুঘলকের থেকেও ভয়ঙ্কর। বিজেপিকে ভালো করে চিনে নিয়ে এই মাটিতে গণতান্ত্রিক ভাবে কবর দিতে বলেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশঃ
মোদী শুধু মিথ্যাচার করে, দুরাচার করে, যখন তখন যা ইচ্ছে তাই করছে। মোদী মহম্মদ বিন তুঘলকের থেকেও ভয়ঙ্কর।
মোদী বাংলায় এসে বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি করেছে? এটা বাংলার নির্বাচন নয়, এটা দিল্লীর নির্বাচন। বাংলার নির্বাচন হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে জবাব দেবে সে কি করেছে।
মোদীর আচ্ছে দিন, ১২ হাজার কৃষকের মৃত্যু দিন। মোদীর আচ্ছে দিন, ৩ কোটি ছেলে মেয়ের চাকরি চলে যাওয়ার দিন।
মোদীর আচ্ছে দিন নোটবন্দী করে আপনাদের ব্যবসা নষ্ট করে দেওয়ার দিন। মোদীর আচ্ছে দিন নোটবন্দী করে জনগণকে বিপদে ফেলার দিন।
মোদীর আচ্ছে দিন দাঙ্গা লাগিয়ে দেওয়ার দিন। মোদীর আচ্ছে দিন গদা ও তরোয়াল নিয়ে মিছিল করার দিন। মোদীর আচ্ছে দিন মানুষের ওপর অত্যাচার করার দিন।
মানুষে মানুষে ঝামেলা লাগাতে রাস্তায় গদা ও তরোয়াল নিয়ে মিছিল করে বিজেপি।
মোদী বাবু বিদেশে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া গত পাঁচ বছরে আর কি করেছেন? সাড়ে চার বছর বিদেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর সিবিআই ইডি ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে বিরোধীদের ভয় দেখিয়েছেন।
মোদীর বিরুদ্ধে একটা খবর দেখালে মিডিয়ার কাছে সঙ্গে সঙ্গে ফোন যায়। সেই সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়।
বিজেপি এক একটি মীটিং করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করব, আপনারা বাকি দলের বিরুদ্ধে যেরকম ব্যবস্থা নিচ্ছেন, বিজেপির বিরুদ্ধেও নিন।
নরেন্দ্র মোদী একজন প্রার্থী হিসেবে নমিনেশন ফাইল করতে গিয়ে কত টাকা খরচ করেছে? কেন তাঁর তদন্ত হবে না? তাঁর হলফনামায় অর্ধেক জিনিস জানা নেই বলে পূরণ করা আছে। কেন তাঁর প্রার্থী পদ বাতিল হবেনা?
মোদী বাংলায় এসে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় দুর্গাপুজো করতে দেয় না। আপনারাই বলুন এখানে পুজো হয় কি হয় না? আমাদের সরকার যখন ২৮ হাজার দুর্গা পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে দেবে ঘোষণা করল, তখন বিজেপি আদালতে গিয়ে মামলা করল কেন? কলকাতার ৪০টা দুর্গা পুজো কমিটিকে আয়কর দপ্তর নোটিশ দিয়েছে কেন?
আমি অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। কিন্তু, মোদীর মত কোনও প্রধানমন্ত্রী দেখিনি যাকে দেখে মানুষ ভয় পায়। নরেন্দ্র মোদীকে দেশের মানুষ ভয় পায়।
আমি মোদীর মত ভয়ঙ্কর প্রধানমন্ত্রী দেখিনি। সমস্ত দলকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করালেও তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি। দরকার হলে জীবন দেব, কিন্তু, বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করব না। বেড়ালের গলায় ঘণ্টা আমরাই বাঁধব।
নির্বাচিত রাজ্য সরকার থাকা সত্ত্বেও ফ্যাসিবাদী কায়দায় সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে। জরুরী অবস্থার মত কায়দায় সবকিছু চালাচ্ছে।